
চকরিয়া প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সুরাজপুর এলাকায় বসতভিটা জবরদখল, হামলা, ভাঙচুর ও চাঁদা দাবির অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় জনসাধারণ ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে ঘটনাস্থলে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় মো. সাগর, পিতা মুসলিম উদ্দিনসহ স্থানীয়রা এ প্রতিবাদ জানান।
প্রতিবাদকারীদের দাবি, গত ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে ওই এলাকায় কোনো ধরনের জবরদখল, হামলা বা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি। বরং প্রকৃত মালিক নিজ জায়গায় বৈধভাবে কাজ করতে গেলে কয়েকজন ব্যক্তি তাতে বাধা দেন। পরবর্তীতে ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে জবরদখল, হামলা ও চাঁদা দাবির মতো গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
মো. সাগরের দাবি, দীর্ঘদিনের জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ঘটনাটিকে ‘হামলা ও জবরদখল’ হিসেবে প্রচার করছে। জমির প্রকৃত মালিকানা ও দখলের বিষয়টি দলিলপত্র, খতিয়ানসহ সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই এবং আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারণ করা সম্ভব। অথচ কোনো ধরনের সরেজমিন যাচাই-বাছাই ছাড়া একপক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করায় তারা সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন।
তারা আরও দাবি করেন, স্থানীয় বিএনপি নেতাদের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা, ভাঙচুর কিংবা চাঁদা দাবির যে অভিযোগ করা হয়েছে, তার সঙ্গে বাস্তব ঘটনার কোনো মিল নেই। তাদের ভাষ্য, নিজস্ব জায়গায় স্বাভাবিকভাবে কাজ করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছে।
অন্যদিকে মো. সাগর পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা রাকিবুল হাসান নাফিউ ওরফে রাকিব, প্রবাস থেকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ থাকা মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে পটল, হেফাজতুর রহমান সিমুল এবং বহিরাগত সিফাতের নেতৃত্বে তাদের জায়গা অবৈধভাবে জবরদখলের চেষ্টা ও কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
প্রতিবাদ সভায় স্থানীয়রা বলেন, জমির মালিকানা নিয়ে কোনো বিরোধ থাকলে সংশ্লিষ্ট দলিল, খতিয়ান ও অন্যান্য আইনগত কাগজপত্র যাচাই করে প্রকৃত বিষয়টি নির্ধারণ করা হোক। একই সঙ্গে কোনো পক্ষের একতরফা বক্তব্যের ওপর নির্ভর না করে সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা জনসম্মুখে তুলে ধরার দাবি জানান তারা।
প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়ে সংশ্লিষ্টরা সংবাদটির তীব্র নিন্দা জানান এবং ভবিষ্যতে উভয় পক্ষের বক্তব্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানান।