
সাদ্দাম হোসেন সাইফ : লামা(বান্দরবান) প্রতিনিধি:
৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইংরেজি (শুক্রবার)
বান্দরবানে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযানে ৩০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ একটি প্রাইভেটকার ও মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মো. জাকির হোসেন (৩৩) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা ২১ মিনিটে বান্দরবান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মোহাম্মদপুর সাকিনস্থ তাজিংডং হোটেলের সামনে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশ জানায়, বান্দরবান পার্বত্য জেলার পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকারের নির্দেশে জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ মো. কামরুল আজমের নেতৃত্বে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাজিংডং হোটেলের সামনে পাকা সড়কে অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে চট্টগ্রামের কেরানীহাট থেকে বান্দরবানের দিকে আসা একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকারে তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশির সময় গাড়ির চালকের আসনে থাকা জাকির হোসেনের কথাবার্তায় অসংলগ্নতা পরিলক্ষিত হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। একপর্যায়ে তিনি গাড়িতে ইয়াবা থাকার কথা স্বীকার করেন বলে দাবি পুলিশের। পরে তার দেখানো মতে গাড়ির পেছনের সিটে বিশেষ কৌশলে খাকি কসটেপে মোড়ানো ১৫টি পোটলা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের দাবি, উদ্ধার করা পোটলাগুলোর ভেতরে ছিল ১৫০টি নীল রঙের বায়ুরোধক পলিজিপার প্যাকেট। প্রতিটি প্যাকেটে ২০০ পিস করে সর্বমোট ৩০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট (ভাঙা ইয়াবাসহ) পাওয়া যায়। উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ৯০ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ সময় ইয়াবা পরিবহনে ব্যবহৃত সাদা রঙের প্রাইভেটকারটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ঢাকা মেট্রো-গ-১৬-৮৪৩৯ এবং গ্রেপ্তারকৃত জাকির হোসেনের ব্যবহৃত একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
কক্সবাজার থেকে কুমিল্লায় ইয়াবা পাচারের অভিযোগ
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জাকির হোসেন জানিয়েছেন বলে পুলিশ জানায়, তিনি কক্সবাজার জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে অজ্ঞাতনামা মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে কুমিল্লার অজ্ঞাতনামা মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রির উদ্দেশ্যে আরও তিনজন অজ্ঞাতনামা সহযোগীর সঙ্গে প্রাইভেটকারযোগে ইয়াবা পরিবহন করছিলেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের কেরানীহাট এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা কৌশলে কেরানীহাট হয়ে বান্দরবানে প্রবেশ করেন। পরে বান্দরবান বাসস্টেশন এলাকায় ওই তিন সহযোগী গাড়ি থেকে নেমে পালিয়ে যায় বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি।
পুলিশ আরও জানায়, উদ্ধারকৃত ইয়াবা, প্রাইভেটকার ও মোবাইল ফোন শুক্রবার দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে যথাযথ প্রক্রিয়ায় জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একই সঙ্গে পলাতক সহযোগী ও সংশ্লিষ্ট মাদক ব্যবসায়ীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
চেকপোস্টে নজরদারি বাড়ানোর দাবি সচেতন মহলের
এদিকে বান্দরবানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহলের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের মতে, মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত ও আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
বিশেষ করে বান্দরবান একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকা হওয়ায় বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পর্যটক ও যানবাহনের চলাচলের ওপর আইনসঙ্গত ও প্রয়োজনীয় নজরদারি আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। একই সঙ্গে জেলার বিভিন্ন প্রবেশপথ ও প্রশাসনের স্থাপিত চেকপোস্টগুলোতে নজরদারি জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ।
সচেতন মহলের প্রত্যাশা, মাদক পরিবহন ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি জেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও প্রবেশপথে কার্যকর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
বান্দরবান পার্বত্য জেলা পুলিশ জানিয়েছে, মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে পুলিশ দৃঢ়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।