
জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থার দাবিতে অভিভাবকদের সংবাদ সম্মেলন
এইচ এম রুহুল কাদের, চকরিয়া প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের চকরিয়ায় ‘আলোকিত মেধাবিকাশ স্বর্ণপদক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫’-এর পুরস্কার বিতরণে অনিয়ম, জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং পরীক্ষার আগে ঘোষণা অনুযায়ী স্বর্ণপদকসহ পুরস্কার দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও পরীক্ষার হল সুপার।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় চকরিয়ায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পরীক্ষার হল সুপার বদরুল ইসলাম বেদার, অভিভাবক রিয়ানুল কবির রিয়ান ও মিজবা উল হক।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ‘আলোকিত মেধাবিকাশ স্বর্ণপদক বৃত্তি পরীক্ষা’ অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকদের প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, চকরিয়ার দুটি কেন্দ্রে মোট ২ হাজার ৬২৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয় এবং ৫৯৮ জন শিক্ষার্থী বৃত্তিপ্রাপ্ত হয়।
অভিভাবকদের অভিযোগ, বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের পুরস্কার বিতরণ ১২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা জানানো হলেও পরে ভেন্যু পরিবর্তন করে ফাঁসিয়াখালী রশিদ আহমদ চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখানে গিয়ে তারা ঘোষিত পুরস্কারের পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের নামমাত্র পুরস্কার এবং অনেকের হাতে শুধু খালি সনদ দেখতে পান।
তাদের দাবি, পরীক্ষার আগে বিভিন্ন গ্রেডের জন্য স্বর্ণপদকসহ পৃথক পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পুরস্কার বিতরণে সেই ঘোষণা অনুযায়ী পুরস্কার দেওয়া হয়নি। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে অভিভাবকদের একটি অংশ চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। আবেদনে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সত্যতা পাওয়া গেলে আয়োজক মোহাম্মদ জাকার আমিন ও তার প্রতিষ্ঠান ‘আলোকিত ফাউন্ডেশন’-এর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করে কেউ যেন পার না পায়। দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি পরীক্ষার আগে যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, সে অনুযায়ী স্বর্ণপদকসহ পুরস্কার প্রদান করতে হবে।
অভিভাবকরা জানান, বিষয়টি নিয়ে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গেও যোগাযোগ করেছেন। তাদের দাবি, কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ থেকে নয়, বরং শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার, মেধার যথাযথ মূল্যায়ন এবং বৃত্তি কার্যক্রমে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেই তারা অভিযোগ করেছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে আয়োজক প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা ও প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছেন অভিভাবকরা।