
চকরিয়ায় বিষাক্ত কোবরা সাপের কামড়ে আক্রান্ত ফরহাদ (৩৫) নামে এক সাপুড়ের প্রাণ রক্ষা পেয়েছে সময়মতো এন্টিভেনম প্রয়োগ ও চিকিৎসকদের দ্রুত চিকিৎসাসেবায়।
শনিবার (১৫ আগস্ট) গভীর রাতে আনুমানিক ১টার দিকে কৈয়ারবিল এলাকার বাসিন্দা ফরহাদ বিষাক্ত কোবরা সাপের কামড়ে আক্রান্ত হন। পরে তিনি সাপটিসহ চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে ভর্তি হন। তিনি পেশায় সাপুড়ে এবং নিয়মিত বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে সাপ ধরেন বলে জানা গেছে।
হাসপাতালে ভর্তির কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর শরীরে সাপের বিষক্রিয়ার লক্ষণ দেখা দেয়। বিষয়টি বুঝতে পেরে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীনের নেতৃত্বে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বয়ে দ্রুত চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করা হয়। প্রয়োজনীয় চিকিৎসার পাশাপাশি দ্রুত এন্টিভেনম প্রয়োগ করা হয়।
চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের দ্রুত সিদ্ধান্ত, সমন্বিত প্রচেষ্টা এবং আন্তরিক চিকিৎসাসেবায় রোগীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত উন্নতি ঘটে। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার চিকিৎসা শেষে তিনি আশঙ্কামুক্ত হন।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুস্থ হওয়ার পর ফরহাদ বারবার তাঁর ‘মামু’ কোথায় জানতে চাইছিলেন। পরে জানা যায়, ‘মামু’ বলতে তিনি সেই সাপটিকেই বোঝাচ্ছিলেন—যা ঘটনাটিকে কিছুটা হাস্যরসেরও জন্ম দেয়।
চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপে কাটার রোগীদের জন্য এন্টিভেনম মজুদ রয়েছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সাপে কাটলে কোনো ধরনের ঝাড়ফুঁক, ওঝা বা কবিরাজের কাছে সময় নষ্ট না করে দ্রুত আক্রান্ত ব্যক্তিকে নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে বিষাক্ত সাপ ধরতে গিয়ে ঝুঁকি না নেওয়া এবং সাপের ছবি বা ভিডিও করতে গিয়ে অসতর্ক না হওয়ার জন্যও সতর্ক করা হয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা জরুরি চিকিৎসাসেবা দিতে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা দায়িত্ব পালন করছেন। গভীর রাতেও সংকটাপন্ন রোগীর জীবন রক্ষায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাই তাদের দায়িত্ব।
সাপে কাটলে ঝাড়ফুঁক নয়—দ্রুত হাসপাতালে আসুন। সময়মতো চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় এন্টিভেনম প্রয়োগই জীবন বাঁচাতে পারে।