
চকরিয়া প্রতিনিধি: কক্সবাজারের চকরিয়ায় চাঁদা না দেওয়ায় শত বছরের ভোগদখলীয় চাষাবাদী জমিতে রোপণ করা ধানের চারা রাতের আঁধারে সংঘবদ্ধ একটি চক্র উপড়ে ফেলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালানোর সময় চক্রটির সদস্যরা জুতা-স্যান্ডেল ফেলে যায় বলেও অভিযোগ করেছেন জমির মালিক।
ঘটনাটি ঘটেছে চকরিয়া উপজেলার লক্ষ্যারচর ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব পাশে, মহাসড়কের পশ্চিমে অবস্থিত জমিতে। জমিটির মালিক অবসরপ্রাপ্ত সরকারি স্বাস্থ্য পরিদর্শক আলহাজ্ব সৈয়দ মুহাম্মদ ওসমান গনি।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ আগস্ট সকালে ওই জমিতে ধান রোপণের সময় একটি সংঘবদ্ধ চক্র সন্ত্রাসী কায়দায় বাধা দেয় এবং জমি জবরদখলের চেষ্টা চালায়। এ সময় তারা চাঁদা দাবি করে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে সংঘবদ্ধ চক্রটি রাতের আঁধারে লাইট জ্বালিয়ে জমিতে প্রবেশ করে সদ্য রোপণ করা ধানের রোয়া (চারা) উপড়ে ফেলে বলে অভিযোগ করেন জমির মালিক। এতে জমির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি তার।
ঘটনার খবর পেয়ে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমানের নির্দেশে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জবরদখল চেষ্টাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়। এ সময় ঘটনাস্থলে তাদের ব্যবহৃত জুতা-স্যান্ডেল পড়ে থাকতে দেখা যায় বলে স্থানীয়রা জানান।
জমির মালিক আলহাজ্ব সৈয়দ মুহাম্মদ ওসমান গনি বলেন, তাঁর পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ওই জমি ভোগদখল ও চাষাবাদ করে আসছে। জমিতে চাষাবাদে বাধা, চাঁদা দাবি এবং রাতের আঁধারে রোপিত ধানের চারা উপড়ে ফেলার ঘটনায় তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাঁর জমিতে নির্বিঘ্নে চাষাবাদ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।