
জুলাই শহীদ আহসান হাবীবকে নিয়ে বিএনপি সভাপতির বক্তব্যের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছেন চকরিয়া উপজেলা জামায়াত
চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হকের বক্তব্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে চকরিয়ার একমাত্র শহীদ আহসান হাবীব হাসানের নাম শহীদদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানানোয় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চকরিয়া উপজেলা শাখার আমীর মাওলানা আবুল বশর ও সেক্রেটারি মাওলানা ছৈয়দ করিম।
শনিবার(৮ আগষ্ট) এক যৌথ বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, শহীদের পরিচয় কোনো রাজনৈতিক দলের পরিচয়ে নির্ধারিত হয় না। একজন শহীদের পরিচয় হলো—তিনি দেশের মানুষের অধিকার ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে জীবন উৎসর্গ করেছেন।
শহীদ আহসান হাবীব হাসান ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কক্সবাজারের রাজপথে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। আন্দোলনের পক্ষে অনলাইনেও তিনি সোচ্চার ছিলেন। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে রাজপথে অবস্থানকালে পুলিশের গুলিতে তিনি শাহাদাত বরণ করেন। তাঁর এই আত্মত্যাগকে অস্বীকার করা কিংবা শহীদের তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ দেওয়ার দাবি শুধু একজন শহীদের প্রতি অবমাননা নয়; এটি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী সকল শহীদের প্রতি চরম অসম্মান।
নেতৃবৃন্দ বলেন, চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতির মতো দায়িত্বশীল একজন রাজনৈতিক নেতার কাছ থেকে এমন বক্তব্য অত্যন্ত হতাশাজনক, নিন্দনীয় ও অনভিপ্রেত। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু একজন শহীদের আত্মত্যাগ নিয়ে প্রশ্ন তোলা কিংবা তাঁর শহীদ হওয়ার স্বীকৃতি অস্বীকার করার কোনো রাজনৈতিক বা নৈতিক অধিকার কারও নেই।
আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই—শহীদ আহসান হাবীব হাসানের আত্মত্যাগ কোনো রাজনৈতিক দলের দয়া বা করুণার বিষয় নয়। তাঁর শাহাদাতের ঘটনা আন্দোলনের ইতিহাসের অংশ এবং তাঁর পরিবারের ত্যাগকে কোনো বক্তব্য দিয়ে মুছে ফেলা যাবে না।
এ ধরনের বক্তব্য জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাসকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা এবং শহীদদের মর্যাদাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার শামিল। আমরা মনে করি, কোনো রাজনৈতিক স্বার্থ, ব্যক্তিগত বিরোধ কিংবা ভুল তথ্যের ভিত্তিতে একজন শহীদের আত্মত্যাগকে অস্বীকার করা অত্যন্ত গুরুতর ও দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ।
চকরিয়া উপজেলা জামায়াতের নেতৃবৃন্দ বিএনপি সভাপতি এনামুল হককে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনার কাছে যদি এ বিষয়ে কোনো তথ্য বা প্রমাণ থাকে, তা জনগণের সামনে উপস্থাপন করুন। অন্যথায় একজন শহীদের বিরুদ্ধে এমন বক্তব্য প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করুন।
আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি—চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হককে তাঁর বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে, বক্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করতে হবে এবং শহীদ আহসান হাবীব হাসানের পরিবার ও সহযোদ্ধাদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে।
অন্যথায় শহীদদের মর্যাদা ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস বিকৃতির যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে চকরিয়ার জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিকভাবে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখবে।
শহীদের রক্তের সঙ্গে কোনো আপস নয়।
শহীদের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস বিকৃতির অপচেষ্টা রুখে দিতে হবে।
প্রতিবাদে,
মাওলানা আবুল বশর, আমীর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, চকরিয়া উপজেলা।
মাওলানা ছৈয়দ করিম সেক্রেটারি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, চকরিয়া উপজেলা।