
নজরুল ইসলাম (লামা, বান্দরবান) প্রতিনিধিঃ
বান্দরবানের লামা উপজেলায় ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের পুষ্টি উন্নয়ন ও অপুষ্টি মোকাবিলায় কাজ করছে তহ্জিংডং। উপজেলার দুর্গম ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিশুদের পুষ্টিগত অবস্থা উন্নয়নের লক্ষ্যে ৫৭২টি গ্রামে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
সোমবার (১০ আগস্ট ২০২৬) লামা উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে এ কার্যক্রম নিয়ে প্রকল্প অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। তহ্জিংডংয়ের আয়োজনে এবং হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের সহযোগিতায় এ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সোলায়মান, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা প্রভুজ বড়ুয়া, কৃষিবিদ শাহীনা আক্তার, লামা উপজেলা তহ্জিংডং কো-অর্ডিনেটর আমিনুল ইসলাম, প্রকল্প কর্মকর্তা জাফর উল্লাহ এবং হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনালের লাইভলিহুড স্পেশালিস্ট বাপ্রু মং মার্মা।
সভায় তহ্জিংডংয়ের প্রকল্প কর্মকর্তা জাফর উল্লাহ স্বাগত বক্তব্য দেন। তিনি প্রকল্পের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে উপস্থিত অতিথি ও অংশীজনদের অবহিত করেন।
পরে লামা উপজেলা তহ্জিংডং কো-অর্ডিনেটর আমিনুল ইসলাম মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে প্রকল্পের মূল কার্যক্রম ও সুযোগ-সুবিধা তুলে ধরেন। তিনি জানান, প্রকল্পটির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের পুষ্টিগত অবস্থা উন্নয়ন এবং অপুষ্টিজনিত সমস্যা মোকাবিলা করা। এ লক্ষ্যে শিশুদের পুষ্টিগত অবস্থা পর্যবেক্ষণ, পুষ্টিজনিত সমস্যা চিহ্নিতকরণ, প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সেবা নিশ্চিতকরণ এবং অভিভাবকদের পুষ্টি বিষয়ে সচেতন করার মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
প্রকল্পের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম বাস্তবায়নে উপজেলা পর্যায়ে ৫ জন এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে ২২ জন কর্মীসহ মোট ২৭ জন কর্মকর্তা-কর্মী দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের মাধ্যমে উপজেলার ৫৭২টি গ্রামে শিশুদের পুষ্টি নিয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
সভায় বক্তারা বলেন, পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকার অনেক শিশু প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও স্বাস্থ্যসেবা থেকে পিছিয়ে রয়েছে। শিশুদের সুস্থভাবে বেড়ে ওঠা ও স্বাভাবিক শারীরিক-মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করতে পরিবারের সদস্য ও অভিভাবকদের পুষ্টি বিষয়ে সচেতন করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সেবা শিশুদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া জরুরি।
তারা আরও বলেন, শিশুদের শৈশবকালীন পুষ্টি নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে একটি সুস্থ ও কর্মক্ষম প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বেসরকারি সংস্থা এবং জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
এসময় লামা সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং আজিজনগর, রূপসীপাড়া, গজালিয়া ও সরই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও তহ্জিংডং ও হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের অন্যান্য কর্মকর্তা, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, সুধীজন ও সাংবাদিকরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।