
চকরিয়া প্রতিনিধ:
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী বেন্ডিবাজার এলাকায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের জায়গা এবং একটি ছড়া খাল দখল করে অবৈধভাবে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, এক প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতার ছেলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সদ্য বদলিকৃত এক উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে অর্থের বিনিময়ে ম্যানেজ করেই নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফলে সরকারি জমি দখলের পাশাপাশি খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা এবং মহাসড়কের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
এলাকাবাসীর দাবি, অবৈধ স্থাপনা দ্রুত উচ্ছেদ এবং পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক। তাদের ভাষ্য, প্রভাবশালীদের সঙ্গে সমঝোতার কারণেই বছরের পর বছর সরকারি জমি দখলের ঘটনা ঘটছে।
অন্যদিকে, মার্কেট নির্মাণে জড়িত ব্যক্তিরা জানান, সড়ক ও জনপথ বিভাগ তাদের নোটিশ দিয়েছে। তবে আপাতত নির্মাণকাজ চালিয়ে যেতে কোনো বাধা নেই। উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হলে তখন স্থাপনা সরিয়ে নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে আরও অভিযোগ রয়েছে, চকরিয়া থেকে সদ্য বদলি হওয়া উপ-সহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম দায়িত্বে থাকাকালে এ ধরনের আরও সরকারি জায়গা প্রভাবশালীদের দখলে যেতে সহায়তা করেছেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী সরে যেতে নোটিশ পাঠিয়েছি ।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী রুপন উদ্দিন খালেদ বলেন, আমরা অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে নোটিশ দিয়েছি। কিন্তু আমাদের ম্যাজিস্ট্রেট না থাকায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টি জেলা প্রশাসক মহোদয়কে জানানো হয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেট পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের প্রশ্ন, নোটিশ দেওয়ার পরও কীভাবে প্রকাশ্যে নির্মাণকাজ চলতে পারে? সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় সরকারি জমি দখল আরও উৎসাহিত হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের।