
ফাদুখোলায় ড্রেজার মেশিনে বালু উত্তোলনের অভিযোগ, ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা; কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস ইউএনওর”
সাদ্দাম হোসেন সাইফ | লামা–বান্দরবান:
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বমুবিলছড়ি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ফাদুখোলা এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন ও পাচারের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বালু উত্তোলনের এই অপতৎপরতা থেকে রেহাই পাচ্ছে না বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের শ্মশানের জায়গাও। এতে ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।
শ্মশানের জায়গায় ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগ;
সরেজমিনে স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফাদুখোলা এলাকায় শ্মশানের জায়গায় ড্রেজার (সেলু) মেশিন বসিয়ে দিন-রাত বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, এভাবে অবাধে বালু উত্তোলন চলতে থাকলে আশপাশের বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও সরকারি গ্রামীণ সড়ক মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। কোথাও কোথাও সড়ক ধসে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকার অভিযোগ;
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব কাজে লাগিয়ে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন ও পাচার চালিয়ে যাচ্ছে। এ ঘটনায় ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন ও সাবেক ওয়ার্ড যুবদল সভাপতি মো. করিমের নাম অভিযোগের মধ্যে উঠে এসেছে।
এ ছাড়া চকরিয়া ও বমুবিলছড়ি ইউনিয়নের কিছু রাজনৈতিক নেতার যোগসাজশ ও পরোক্ষ মদদে চক্রটি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা-ও প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন।
প্রতিবাদ করলেই হুমকি-ধমকির অভিযোগ;
স্থানীয় বাসিন্দাদের আরও অভিযোগ, অবৈধ বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করলে কিংবা উপজেলা প্রশাসন ও সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ জানালে রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়। এ পরিস্থিতিতে অনেকেই প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না বলে দাবি তাঁদের।
অন্যদিকে, অবাধে বালু উত্তোলনের কারণে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় জনপদ, কৃষিজমি ও যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান না থাকায় বালু উত্তোলনকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস ইউএনওর;
এ বিষয়ে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহীন দেলোয়ার জানান, পরিবেশ ধ্বংসকারী এবং অবৈধ বালু উত্তোলন ও পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিবেশের ক্ষতিসাধনকারীদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু আশ্বাস নয়, দ্রুত সরেজমিন তদন্ত করে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের শ্মশানের জায়গা সুরক্ষা এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
এখন এলাকাবাসীর প্রশ্ন—ধর্মীয় শ্মশানের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানেও যদি অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ না হয়, তাহলে তাঁদের বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও সরকারি সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে কে?