
লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:
বান্দরবানের লামা উপজেলায় এক যুবককে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে একটি রাবার বাগানের অফিস কক্ষে হাত-পা বেঁধে বেধড়ক মারধর ও গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ১নং গজালিয়া ইউনিয়নের ‘মোস্তফা রাবার বাগান’–এর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে এই নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।
গত রবিবার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে বাগানের ১নং ব্লকের অফিসে এই ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ভিকটিম মো. ইব্রাহিম পুতুকে উদ্ধার করে। বর্তমানে তিনি লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এই ঘটনায় ভিকটিমের বড় বোন রেহেনা বেগম বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৭/৮ জনকে আসামি করে লামা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এজাহারনামীয় অভিযুক্তরা হলেন— এরশাদ উল্লাহ (২৮), মো. ইউনুছ (৩০), মো. আবছার (৩২) ও মোক্তার হোসেন (৫০)।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর বাদী রেহেনা বেগমের ছোট বোন ফাতেমা আক্তার বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসলে ১নং আসামি এরশাদ উল্লাহ গভীর রাতে অনধিকার প্রবেশ করে তাঁর চরিত্র হননের চেষ্টা চালায়। সে সময় তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলা হলে সে ঘরের দরজা ভেঙে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে গজালিয়া পুলিশ ফাঁড়িতে উভয় পক্ষকে নিয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এরশাদ উল্লাহ নিজের দোষ স্বীকার করে। বৈঠকে তাকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং সে আর ওই রাবার বাগানে চাকরি করবে না মর্মে একটি অঙ্গীকারনামা দেয়।
ভিকটিম মো. ইব্রাহিম পুতু জানান, পূর্বের সেই ঘটনার জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে গত ১৮ অক্টোবর বিকেলে তিনি যখন গজালিয়া বাজারে যাচ্ছিলেন, তখন বিবাদীরা রাস্তায় তাঁর গতি রোধ করে। এরপর এরশাদ উল্লাহ ও মো. ইউনুছের নেতৃত্বে তাকে জোরপূর্বক তুলে মোস্তফা রাবার বাগানের ১নং ব্লকের অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর হাত-পা বেঁধে লাঠিসোটা দিয়ে পিটিয়ে সারা শরীরে নীলাফুলা জখম এবং পিঠে মারাত্মক রক্তাক্ত কাটা জখম করা হয়। ঘটনার বিষয়ে কাউকে কিছু জানালে ভিকটিমসহ তার পরিবারের সদস্যদের মেরে লাশ গুম করার হুমকিও দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে গজালিয়া পুলিশ ফাঁড়ির এসআই রাফসানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে ইব্রাহিমকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করে।
বাদী রেহেনা বেগম জানান, “বিবাদীরা অত্যন্ত প্রভাবশালী ও বেপারোয়া প্রকৃতির। তারা আইন অমান্য করে আমার ভাইকে নির্মমভাবে নির্যাতন করেছে। বর্তমানে আমার ভাই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আমরা স্থানীয়দের পরামর্শে থানায় ন্যায়বিচারের আশায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।”
লামা থানা পুলিশ জানায়, অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করে আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।