৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে বিভিন্ন গণমাধ্যমে আমজাদিয়া রফিকুল উলুম কামিল মাদ্রাসাকে জড়িয়ে প্রকাশিত সংবাদকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা ড. মুহাম্মদ এনয়ামুল হক।
এক প্রতিবাদলিপিতে অধ্যক্ষ বলেন, প্রকাশিত প্রতিবেদনে মাদ্রাসার গভর্নিং বডির কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে হামলার যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ অসত্য। গত ৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে আমজাদিয়া রফিকুল উলুম কামিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ সময় পর কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনা ঘটেছে—এমন কোনো ঘটনা মাদ্রাসায় ঘটেনি।
প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, অভিযোগকারী শাহাদাত হোসেন নিজেকে বিএনপি নেতা হিসেবে দাবি করলেও তিনি মূলত অব্যাহতিপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা ও মাদ্রাসার ইবতেদায়ী জুনিয়র শিক্ষক মৌলভী সাবের আহমদ ফারুকীর প্ররোচনায় মাদ্রাসার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন বলে অধ্যক্ষের দাবি।
অধ্যক্ষ আরও বলেন, মাস্টার শাহাদাত হোসেন সেপ্টেম্বর ২০২৬ মাসে ২৮ দিন বিনা ছুটিতে অনুপস্থিত ছিলেন। মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতি ও শিক্ষা ও আইসিটি-সংক্রান্ত নির্দেশনার পর অধ্যক্ষ হিসেবে ওই ২৮ দিনের বেতন কর্তনের অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপর থেকেই তিনি মাদ্রাসার বিরুদ্ধে অভিযোগ ও অপপ্রচার চালাচ্ছেন বলে দাবি করা হয়।
প্রতিবাদলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, মাদ্রাসার অফিস সহায়ক ওসমান গনীর মাধ্যমে সেপ্টেম্বর মাসের বেতন বিলের স্বাক্ষর নিতে গেলে শাহাদাত হোসেন বেতন বিল ছিঁড়ে ফেলেন, যা পেশাগত শৃঙ্খলাভঙ্গের শামিল।
এছাড়া ৭ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৯টায় আহত হওয়ার দাবি করা হলেও সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাকে বেসরকারি হাসপাতাল ইউনিক হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে দেখা যায় বলে প্রতিবাদলিপিতে দাবি করা হয়েছে। অধ্যক্ষের অভিযোগ, মৌলভী সাবের আহমদ ফারুকী তাকে দিয়ে পরিকল্পিতভাবে এমন ঘটনা সাজিয়েছেন।
মাদ্রাসার আয়-ব্যয় নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন অভিযোগও অস্বীকার করে অধ্যক্ষ বলেন, মাদ্রাসার যাবতীয় আয়-ব্যয় গভর্নিং বডির মাধ্যমে স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিচালিত হয়। ২৮ দিনের বেতন কর্তন থেকে বাঁচতেই শাহাদাত হোসেন মাদ্রাসার বিরুদ্ধে এ ধরনের মিথ্যা অভিযোগ ও অপপ্রচার চালাচ্ছেন বলে তিনি দাবি করেন।
প্রতিবাদলিপিতে আরও বলা হয়, মাদ্রাসার অভ্যন্তরীণ গ্রুপিংয়ের পেছনে ইবতেদায়ী জুনিয়র শিক্ষক মৌলভী সাবের আহমদের ভূমিকা রয়েছে। তিনি পরপর তিনবার শিক্ষক নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর বিভিন্ন দপ্তরে মাদ্রাসার বিরুদ্ধে আবেদন এবং আদালতে মামলা করেছেন বলেও অধ্যক্ষ দাবি করেন।
প্রকাশিত সংবাদে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আমজাদিয়া রফিকুল উলুম কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা ড. মুহাম্মদ এনয়ামুল হক।
নিবেদক: মাওলানা ড. মুহাম্মদ এনয়ামুল হক অধ্যক্ষআমজাদিয়া রফিকুল উলুম কামিল মাদ্রাসা ।