এইচ এম রুহুল কাদের:
কক্সবাজারের চকরিয়ায় আলোচিত ছাত্রদল নেতা ইসফাতুল ইসলাম জিসান হত্যা মামলায় আনোয়ার হোসেন প্রকাশ কালু ড্রাইভারকে গ্রেপ্তার ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে চরম ধূম্রজাল ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া। স্বজনদের দাবি, তিনি সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং তাকে পূর্বশত্রুতার জেরে বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে। অন্যদিকে পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামি আদালতের কাছে নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
ঘটনার ঘিরে প্রধান বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে গ্রেপ্তারের সময়সূচি এবং পুলিশের বক্তব্য নিয়ে ।
কালু ড্রাইভারের ছেলে ইমন উদ্দিনের দাবি, পুলিশ তার বাবাকে তিন দিন আগে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় এবং থানায় রেখে নির্যাতন চালায়।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান জানান, আসামিকে ৩০ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার করা হয় এবং ১ অক্টোবর সকালে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
ইমন উদ্দিন আরও জানান, তার বাবা দীর্ঘদিন ধরে মারাত্মক শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন এবং ইতিমধ্যে তার তিনটি বড় ধরনের অপারেশন হয়েছে। শারীরিক অক্ষমতার কারণে তিনি গত ১০ বছর ধরে কোনো গাড়ি চালান না।
পরিবারের দাবি, স্থানীয় বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করা এবং জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে এই হত্যা মামলায় ফাঁসিয়েছে।
চকরিয়া থানার ওসি মো. আরিফুর রহমান জানান, জিসান হত্যায় সরাসরি জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই কালু ড্রাইভারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর আদালতে হাজির করা হলে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।
বর্তমানে মামলার নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে আসামির জবানবন্দি ও ঘটনার সার্বিক প্রেক্ষাপট যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যান্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান ওসি।
স্থানীয়দের দাবি, তিন দিন আগের আটক নাকি নির্দিষ্ট তারিখের গ্রেপ্তার,পরিবারের অভিযোগ ও পুলিশের তথ্যের গরমিল দূর করা প্রয়োজন। একজন শারীরিক অসুস্থ ব্যক্তি যিনি ১০ বছর ধরে গাড়ি চালান না, হত্যাকাণ্ডে তার সুনির্দিষ্ট ভূমিকা কী ছিল? স্থানীয় বালু ব্যবসা ও জায়গা-জমির বিরোধের সাথে এই গ্রেপ্তারের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কিনা, তা সুষ্ঠু নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হওয়া দরকার।