এইচ এম রুহুল কাদের :
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দাবিদারবিহীন প্রায় ৩২শ’ দলিল পুড়িয়ে ফেলার ঘটনায় নানা প্রশ্ন ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। দলিল সংরক্ষণের নানা সুযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন এসব গুরুত্বপূর্ণ নথি পুড়িয়ে ফেলা হলো এ নিয়ে সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আগুনে পুড়িয়ে ফেলার তীব্র সমালোচনা চলছে ।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার সালাহউদ্দিনের উপস্থিতিতে ২০১৭ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত দাবিদারবিহীন এসব দলিল পোড়ানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
সাব-রেজিস্ট্রি অফিস কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব দলিলের কোনো দাবিদার ছিল না। তবে দলিল পোড়ানোর প্রায় দুই ঘণ্টা পর একজন দলিলগ্রহীতা তাঁর দলিলের বিষয়ে অভিযোগ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
বুধবার বিকেল ৫টায় চকরিয়া প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন মোহাম্মদ আলম নামের এক ব্যক্তি। তিনি অভিযোগ করেন, ২০২০ সালে ১৩৭৫ নম্বর দলিলটি করার জন্য সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জমা দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ৫-৬ বার যোগাযোগ করেও তিনি দলিলটি পাননি। তাঁর দাবি, দলিল পুড়িয়ে ফেলা হবে, এমন কোনো তথ্য বা নোটিশও তাকে জানানো হয়নি।
মোহাম্মদ আলম বলেন, ৫-৬ বার যোগাযোগ করেও দলিলটি দেওয়া হয়নি। তারা দলিল পুড়িয়ে দেবে এ কথাও কোনো মাধ্যমে জানায়নি। আজ জানতে পারলাম দলিলটি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে দলিল পোড়ানোর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, গুরুত্বপূর্ণ নথি ধ্বংস না করে সংরক্ষণ বা সংশ্লিষ্ট দলিলগ্রহীতাদের ঠিকানায় ডাকযোগে পাঠানোর ব্যবস্থা করা যেত কি না।
দলিল পোড়ানোর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে দলিলগ্রহীতাদের ঠিকানায় ডাকযোগে পাঠানোর ব্যবস্থা করার পক্ষে মত দিয়েছেন অনেকে ।
সচেতন মহলের অনেকে মনে করছেন, দলিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ নথি ধ্বংস করার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবহিত করা এবং নথিগুলোর প্রয়োজনীয়তা যাচাই করা জরুরি ছিল। একই সঙ্গে সংরক্ষণাগার, ডিজিটাল সংরক্ষণ কিংবা অন্য কোনো নিরাপদ ব্যবস্থার মাধ্যমে এসব নথি সংরক্ষণের সুযোগ ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে চকরিয়া উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার সালাহউদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,পুড়ানোর পূর্বে মাইকিং, নোটিশ ও গণমাধ্যমে প্রচার করেছি যাতে দলিলের মালিকরা নিয়ে যেতে পারে।
দলিলগুলো কী প্রক্রিয়ায় ‘দাবিদারবিহীন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট দলিলগ্রহীতাদের কোনো নোটিশ দেওয়া হয়েছিল কি না এবং ৩২শ’ দলিল পোড়ানোর আগে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না, এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।