পেকুয়া প্রতিনিধি: কক্সবাজারের পেকুয়য় উপকূলীয় প্যারাবন কেটে মৎস্যঘের নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম উজানটিয়া করিমদাদ মিয়া ঘাটসংলগ্ন উজানটিয়া চ্যানেল এলাকায় কয়েক দিন ধরে প্যারাবন নিধন ও স্কেভেটর দিয়ে মাটি কেটে বাঁধ নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রকাশ্যে প্যারাবন উজাড়ের ঘটনা ঘটলেও শুরুতে বন বিভাগের কার্যকর তৎপরতা দেখা যায়নি।
স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিনে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নয়া পাড়ার মৃত করম আলীর ছেলে শফি এবং মিয়া পাড়ার মকবুল বহদ্দারের বিরুদ্ধে প্যারাবন কেটে মৎস্যঘের তৈরির অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ, প্রায় ৪ শেইন আয়তনের প্যারাবন কেটে ফেলার পর স্কেভেটর দিয়ে প্রায় ১০ একর জমিতে মাটি কেটে ঘেরের বাধ নির্মাণ করা হচ্ছে।
প্যারাবন কেটে ঘের, প্রশ্ন জমির ব্যবহার নিয়ে উপকূলীয় এলাকায় প্যারাবন ঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও জোয়ারের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এমন এলাকায় গাছ কেটে মৎস্যঘের নির্মাণের অভিযোগ পরিবেশ ও উপকূল সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক দিন ধরে প্রকাশ্যে গাছ কাটার পাশাপাশি মাটি কেটে বাঁধ নির্মাণ চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ছিল অপর্যাপ্ত। এতে প্যারাবন ধ্বংসের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে দাবি তাঁদের।
তবে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে ঘটনাস্থলে কতটুকু প্যারাবন ছিল, কতটুকু কাটা হয়েছে এবং মৎস্যঘের নির্মণের জন্য জমি ব্যবহারের অনুমতি রয়েছে কি না—এসব বিষয় নথিপত্র ও সরেজমিন যাচাই প্রয়োজন।
জায়গাটির তদারককারী শিমুল জানান, তাঁদের কাছ থেকে বর্গা নিয়ে শফি ও মফিজুর রহমান প্যারাবন কেটে বাঁধ নির্মাণ করছিলেন। বিষয়টি জানার পর বন বিভাগকে অবহিত করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
শিমুলের বক্তব্য অনুযায়ী, জমির ব্যবহার ও প্যারাবন কাটার বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের পর বন বিভাগকে জানানো হয়। তবে জমির বর্গা চুক্তি, মালিকানা এবং অনুমতির বিষয়ে কোনো নথি পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায় নি।
অভিযোগের বিষয়ে শফি বলেন, প্যারাবন আগেই কাটা ছিল। তিনি শুধু মৎস্যঘের নির্মাণের জন্য স্কেভেটর দিয়ে বাঁধ দিয়েছেন।
অপর অভিযুক্ত মফিজুর রহমান তাঁর সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে এ ঘটনার দায় শফির ওপর চাপান।
অভিযুক্তদের বক্তব্যে প্যারাবন কাটার সময়, গাছ কাটার সঙ্গে তাঁদের সম্পৃক্ততা এবং মৎস্যঘের নির্মাণের অনুমোদন নিয়ে প্রশ্নের পূর্ণ নিষ্পত্তি হয়নি। এসব বিষয়ে আরও তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ প্রয়োজন।
মগনামা বিট কর্মকর্তা হোসেন তওফিক জানান, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে লোক পাঠানো হয়েছে। মাটি কাটা বন্ধ এবং স্কেভেটর সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।
তবে বন বিভাগের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থলে গিয়ে কতটুকু প্যারাবন কাটা হয়েছে, ক্ষতির পরিমাণ কত এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত—এসব বিষয়ে কোনো লিখিত তদন্ত প্রতিবেদন বা পরিমাপের তথ্য পাওয়া যায়নি।
প্যারাবন কাটার অভিযোগে বন বিভাগের তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পূর্ণ বক্তব্য ও নথিপত্র যাচাই করা জরুরি। ঘটনাস্থলে নিয়মিত নজরদারি ছিল কি না, অভিযোগ পাওয়ার পর কত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং অবৈধভাবে নির্মিত বাঁধ অপসারণে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।
স্থানীয়দের দাবি, প্যারাবন রক্ষায় কার্যকর নজরদারি জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং অবশিষ্ট প্যারাবন রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।