চকরিয়া প্রতিনিধি:
শতভাগ প্রাকৃতিক ভাবে গড়ে উঠা ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের রেঞ্জার মনজুর আলমের বিরুদ্ধে একের পর এক নানা অভিযোগ উঠেছে। পার্কের প্রানী কুলের মুখের গ্রাস কেঁড়ে খাওয়া, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে লুটপাট হর হামেশ-ই চলছে। যার কোন শেষ নেই।
শুক্রবার দিবাগত রাতে সাপারি পার্কের রেঞ্জারের চাহিদা মিটাতে না পারায় পার্কের বাউন্ডারী ওয়াল সংলগ্ন পতিত জমিতে স্থানীয় বেশকিছু হতদরিদ্রদের পানের বরজ থেকে নগদ আর্থিক সুবিধা না পাওয়ায় রাতের আঁধারে অভিযানের নামে বেশ কয়েটি পানের বরজ ভেঙ্গে গুটিয়ে দিয়ে সর্বশান্ত করে চরম ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেন। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—তিনি কি অভিযানের সময় কোন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কি সাথে রেখেছিল। রাতের তিনটার দিকে হতদরিদ্র পানের বরজে এটা কোন ধরণের অভিযান? তার এহেন
কর্মকান্ড ও দাম্ভিকতার কারণে পার্কের প্রানী কূলও আজ ভালো নেই। তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চালালে নানা ধরণের অনৈতিক কাজের ফিরিস্তি উঠে আসে। ইতিমধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) একটি তার বিরুদ্ধে সাপারি পার্কে অনুসন্ধান চালালেও রহস্যজনক কারণে ওই তদন্তের ফলাফল ফাইলবন্ধী রয়েছে।
দরিদ্র কৃষকের পানের বরজ গুড়িয়ে দিয়ে তাদের যে পরিমাণ ক্ষতি করেছে এতে দরিদ্র চাষিরা পথে বসলেও রেঞ্জার মনজুর আলম ঠিকই বীরদর্পে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন।
ডুলাহাজারা ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রিয়াজ উদ্দিন শিপু জানিয়েছেন, সাপারী পার্কের রেঞ্জার মনজুর আলমকে অনুরোধ করেছি– পান চাষের মৌসুম শেষ হলে হতদরিদ্র হিন্দু সম্প্রদায়ের পান চাষিরা আর পান চাষ করবেনা বলে জানিয়ে তাদের জমি ছেড়ে দেবে বলে অবহিত করে। কিন্ত তাঁর অনুরোধও রক্ষা করেনি পার্কের রেঞ্জার। চাষিদের কোন ধরণের তাগাদা না দিয়ে শুক্রবার দিবাগত রাত ৩ টার দিকে অভিযান চালিয়ে পানের বরজ গুলো গুটিয়ে দেয়া হয়।
এ ব্যাপারে ডুলাহাজারা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, পান চাষিদের বরজ গুটিয়ে দেয়নি বলে দাবি করেছেন রেঞ্জার মনজুর আলম। তিনি পান চাষিদের ক্ষতির দৃশ্য দেখে আশ্বাস্ত করেছেন ভবিষ্যতে পানের বরজ করতে দরিদ্র চাষিদের আর বাঁধা দেয়া হবে না। মূলত এ ঘটনা নিয়ে এলাকায় গণরোষ সৃষ্টি হয় এবং শাসক দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হওয়ার আশঙ্কা বিরাজ করছে। পাশাপাশি রেঞ্জারের এহেন কর্মকান্ডে পরিকল্পিত ভাবে সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য তিনি এসব অপকর্ম করে যাচ্ছেন বলে এলাকাবাসীর অভিমত।
ঘটনার বিষয়ে পার্কের রেঞ্জার মনজুর আলমের কাছে বক্তব্যে নেয়ার জন্য একাধিকবার যোগাযোগ করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।