লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি
৭ আগষ্ট ২০২৬ ইংরেজি (শুক্রবার)
বান্দরবানের লামা উপজেলায় ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অনিয়ম, হয়রানি ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রকৃত স্থানীয় বাংলাদেশি নাগরিকরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েও দীর্ঘদিন ধরে নানা অজুহাতে হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
অপরদিকে, অর্থ ও প্রভাবের মাধ্যমে বহিরাগত এবং রোহিঙ্গা পরিচয়ের কিছু ব্যক্তি সহজেই ভোটার হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভোটার হওয়া একজন বাংলাদেশি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার হলেও লামা উপজেলা নির্বাচন অফিসে সেই অধিকার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অনেক সাধারণ মানুষকে অযথা দৌড়ঝাঁপ করতে হচ্ছে। বিশেষ করে অসহায় ও অসচেতন মানুষ দিনের পর দিন অফিসে ঘুরেও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না। ফলে অনেকেই ভোটার নিবন্ধনের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন।
ভুক্তভোগীদের আরও অভিযোগ, নির্বাচন অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কিছু কর্মকর্তা আবেদনকারীদের কাছ থেকে অবৈধ অর্থ দাবি করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, অর্থ প্রদানকারীদের আবেদন দ্রুত গ্রহণ ও নিষ্পত্তি করা হলেও অর্থ দিতে না পারা ব্যক্তিদের আবেদন মাসের পর মাস ফেলে রাখা হয়। এমনকি কিছু আবেদনপত্র বা ফাইল হারিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী।
এছাড়া, লামা উপজেলার ৩ নং ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে কয়েকজন রোহিঙ্গা পরিচয়ের ব্যক্তি ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন বলে স্থানীয়দের দাবি। তাদের ভাষ্য, এ বিষয়ে তাদের কাছে কিছু তথ্য-উপাত্ত রয়েছে এবং বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব অনিয়মে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের কিছু ব্যক্তি ও প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতা রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, প্রকৃত বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে কঠোরতা ও হয়রানি, আর অন্যদিকে অর্থ বা সুপারিশের অভিযোগে দ্রুত সেবা—এমন বৈষম্য কেন? রাষ্ট্রের আইন ও বিধিমালা যদি সবার জন্য সমান হয়, তাহলে স্থানীয়দের ক্ষেত্রে ভিন্ন আচরণের অভিযোগ কেন বারবার উঠছে?
এলাকাবাসী নির্বাচন কমিশন, জেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অবৈধভাবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকলে তাদের বিষয়ে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।