মোঃ আবদুল্লাহ (আল্-মামুন)
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা SEEP (NGO)-এর বন্যাকবলিত পরিবারের জন্য জনপ্রতি ৮,১৪৮ টাকা আর্থিক সহায়তা বিতরণকে ঘিরে গুরুতর অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও অস্বচ্ছতার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ও দরিদ্র পরিবারের পরিবর্তে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল, প্রভাবশালী ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের নাম উপকারভোগীর তালিকায় স্থান পেয়েছে। ঘটনাটি এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অনুদান বিতরণে নির্ধারিত নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। উপকারভোগীর তালিকায় এমন ব্যক্তিদের নাম রয়েছে, যাদের পরিবার আর্থিকভাবে সচ্ছল, ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত কিংবা বিদেশে কর্মরত স্বজনের আয়ে প্রতিষ্ঠিত। ফলে প্রকৃত অসহায় ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বহু পরিবার বেসরকারি এই মানবিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, তথ্য সংগ্রহ ও উপকারভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বিতর্কিত ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে, যা পুরো কার্যক্রমের নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, স্বচ্ছ যাচাই-বাছাই ছাড়া তালিকা প্রস্তুত করায় প্রকৃত উপকারভোগীদের অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে।
এ বিষয়ে কাকারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিউল আলম (শফী) বলেন, আমি শুধু বন্যাকবলিতদের টাকা প্রদানের স্থান নির্ধারণ করে দেখিয়ে দিয়েছি। উপকারভোগীর তথ্য সংগ্রহ বা তালিকা প্রণয়নের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
অন্যদিকে অভিযোগের বিষয়ে SEEP (NGO)-এর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য দিতে সম্মত হননি।
এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত দাবি করেছেন। তাদের মতে, অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, বিতর্কিত তালিকা বাতিল এবং প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে পুনরায় অনুদান বিতরণ নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের প্রতি জনসাধারণের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
প্রদান কার্য শেষের দিকে এই এনজিও প্রতিনিধির কাছ থেকে বক্তব্য নিতে চাইলে তারা গণমাধ্যমকে বক্তব্য দিতে অপারগতা পোষণ করেন ।