অমর শহীদ আহসান হাবিব:
তরুণদের প্রেরণা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক বীর সেনানী
যে বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য আহসান হাবিব নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন, সেই বাংলাদেশ গড়ে তোলাই আমাদের সবচেয়ে বড় অঙ্গীকার।
সাধারণ পরিবার থেকে এক অনন্য স্বপ্নদ্রষ্টা:
শহীদ আহসান হাবিব ১৯৯৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজার জেলার ফাসিয়াখালী ইউনিয়নের আসল আলী পাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। অত্যন্ত সাধারণ পরিবারে বেড়ে ওঠা আহসান হাবিবের জীবন ছিল কঠোর সংগ্রাম ও ত্যাগের এক অনন্য উদাহরণ। তাঁর পিতা গ্রামের হাটে সবজি বিক্রি করে সংসার চালাতেন। কিন্তু তীব্র অভাবের মাঝেও আহসান হাবিব তাঁর আদর্শ ও পড়াশোনা থেকে কখনো পিছপা হননি। চকরিয়া কলেজের ডিগ্রি ৩য় বর্ষের এই মেধাবী শিক্ষার্থী নিজের পড়াশোনার খরচ চালানো এবং পরিবারকে সাহায্য করার জন্য টিউশনি করতেন।
অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক সাহসী কণ্ঠস্বর:
আহসান হাবিব কেবল পড়াশোনাতেই ভালো ছিলেন না, বরং শৈশব থেকেই তাঁর মধ্যে এক অসাধারণ নেতৃত্বগুণ, সততা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর মানসিকতা ছিল। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে তাঁর আপসহীন চরিত্র তাকে এলাকার সকলের কাছে প্রিয় করে তুলেছিল। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে যখন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়, তখন কক্সবাজার অঞ্চলে ছাত্রদের সংগঠিত করতে এবং ন্যায্য অধিকার আদায়ে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
শাহাদাতের অমর গাথা:
১৮ জুলাই ২০২৪ তারিখে সারা দেশের ন্যায় কক্সবাজারেও ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ মিছিলে সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। এ সময় কক্সবাজার শহরে শান্তিপূর্ণ মিছিলে থাকা আহসান হাবিব বুক পেতে নেন ঘাতকের বুলেট। রক্তাক্ত অবস্থায় প্রথমে তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে ১৯ জুলাই বিকেলে তিনি শাহাদাত বরণ করেন।
শেষ কথা ও আমাদের দায়িত্ব:
শহীদ আহসান হাবিবের এই পরম আত্মত্যাগ আমাদের শেখায় কীভাবে প্রতিকূলতার মাঝেও মাথা উঁচু করে বাঁচতে হয় এবং দেশের প্রয়োজনে নিজের জীবনকে বিলিয়ে দিতে হয়। তাঁর এই অনুপ্রেরণা এ দেশের প্রতিটি তরুণের মনে অনন্তকাল বেঁচে থাকবে। তাঁর শাহাদাত বার্ষিকীতে আমাদের পরম কর্তব্য হচ্ছে তাঁর স্মৃতিকে ধারণ করা, তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং যে বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন তিনি দেখেছিলেন, তা বাস্তবে রূপ দেওয়া।
এইচ এম রুহুল কাদের
সম্পাদক : NBtv